ভীষ্মদেব দাশ, পাঁশকুড়া (পূর্ব মেদিনীপুর): ইমারতি ভান্ডার থেকে টাইমবোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করল পুলিশ ও বোম স্কোয়াড। টাইমবোমার মতোই বস্তুগুলিতে লাল, কালো, সবুজ রঙের স্কচটেপ প্যাঁচানো ছিল। রিমোর্ট কন্ট্রোলের মাথায় জ্বলছিল লাল আলো। তাই প্রাথমিক দর্শনেই সকলে টাইমবোমা বলে অনুমান করেন। লাল আলো জ্বলল, ঘড়ির কাঁটা ঘুরলেও বিস্ফোরণ থেকে মুক্তি পেল পাঁশকুড়া। ঘটনাটি ঘটেছে পাঁশকুড়া শহর থেকে প্রায় ৭কিলোমিটার দুরে শেরহাটি গ্রামে। গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক কার্তিক গাঁতাইতের ইমারতি ভান্ডার রয়েছে শেরহাটি বাজারে। বৃহস্পতিবার ছেলে রজত গাঁতাইত ইমারতি ভান্ডারে ছিলেন। রজত বাবু জানান, সকাল ৯টা নাগাদ অজানা নাম্বার থেকে ফোন এসেছিল। ফোনে আমাকে জানানো হয় গুদামে বোমা আছে। তড়িঘড়ি খবর পাঠানো হয় পাঁশকুড়া থানায়। এলাকায়ও টাইমবোমা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পুলিশ ও দমকল বাহিনী পৌঁছায়। দোকান চত্বর ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশ বাহিনী। দোকানের পাশাপাশি বসবাসকারী বাসিন্দাদেরও দুরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ঘটনাস্থলে বোম স্কোয়াড ও পুলিশ কুকুর এসে বোমা শনাক্তকরণ করে। তমলুকের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক অতীশ বিশ্বাস বলেন, বিকেলে বোম স্কোয়াডের টিম বোমাগুলো উদ্ধার করেছে। বোম স্কোয়াড বোমাগুলো পর্যবেক্ষণ করছেন। বস্তুগুলোর ভিতরে বোমা তৈরির কি কি উপাদান আছে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। রজত গাঁতাইত জানান সকালে দোকানে স্থানীয় যুবক শেখ আসানুল জিনিসপত্র কিনতে এসেছিল। তাছাড়া দোকানে কেউ আসেনি। ওই যুবকের দোকানে কম-বেশি যাতায়াত রয়েছে। কিন্তু অভিনব পদ্ধতিতে কে, কেন টাইমবোম দোকানের গোডাউনে রাখল তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান কার্তিক বাবুর পুরনো কোনও শত্রুতা থেকে ঘটনাটি ঘটতে পারে।ভয় দেখানোর জন্যও হতে পারে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শেখ আসানুলকে আটক করেছে।
আরও পড়ুন






